A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

Banglacinema | Review

মেঘে ঢাকা তারা



5 out of 5

মেঘে ঢাকা তারা

  • Actor : শাশ্বত চ্যাটার্জী, আবির চ্যাটার্জী, রাহুল ব্যানার্জী, শুভাশিষ মুখার্জী
  • Actress : অনন্যা চ্যাটার্জী, মুমতাজ সরকার, বিদীপ্তা চক্রবর্তী
  • Director : কমলেশ্বর মুখার্জী
  • Music Director: দেবজ্যোতি মিশ্র
  • Singers : অম্বরীশ, শর্মিষ্ঠা পাল, অনুরূপ, অরিজিত, রাঘব চ্যাটার্জী
  • Reviewed by : বাংলাসিনেমা টিম

বাঙালী আবার করে ঋত্ত্বিক-কে চিনবে। অন্তত চেনার চেষ্টাটুকু করবে। এই ঋত্ত্বিক অবশ্য বলিউডের ঋত্ত্বিক রোশন নন। ইনি হলেন আমাদের বাংলার ঋত্ত্বিক ঘটক। এই নামটার সঙ্গে প্রায় সব বাঙালী পরিচিত। শুধু নামটার সঙ্গেই পরিচিত। কিন্তু কাজ? কাজের সঙ্গে বোধহয় সেরকমভাবে পরিচিত খুব কম লোক-ই আছেন। কিন্তু আবার বাঙালীকে নতুন করে ঋত্ত্বিককে চিনতে শেখাল পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জী। তার পরিচালিত ছবি ‘মেঘে ঢাকা তারা’ মুক্তি পেয়েছে গত ১৪ই জুন।

এই ছবিতে প্রখ্যাত পরিচালক ঋত্ত্বিক ঘটকের জীবন ছাড়াও উঠে এসেছে তেভাগা এবং নক্সাল আন্দোলনের সময় পশ্চিমবঙ্গের সোশিও পলিটিকাল পরিবেশ। ঘটকের কাছে সিনেমা শুধুমাত্র এন্টারটেনমেন্ট ছিল না বরং যুদ্ধের অস্ত্রও ছিল। এই ছবিতে ঋত্ত্বিকের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন শাশ্বত চ্যাটার্জী আর তাঁর স্ত্রী অর্থাৎ সুরমা ঘটকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী অনন্যা চ্যাটার্জী। এই সিনেমার একজায়গায় তাই নীলকন্ঠ(শাশ্বতর চরিত্র)বলছেন ‘আমি সিনেমার প্রেমে পড়িনি বিক্রম দা, ওটাকে যুদ্ধের একটা অস্ত্র হিসেবে দেখছি।’ তিনি তাঁর কেরিয়ারে না সাফল্য লাভ করতে পেরেছিলেন না হতে পেরেছিলেন একজন ভালো স্বামী। তবুও তিনি কোনো দিন এইসবের জন্য ভাবেননি। যেমন তিনি ভাবেননি নিজের যশ খ্যাতির জন্য।

এই ছবির গল্প শুরু হয় ১৯৬৯ সালে যখন নীলকন্ঠকে তাঁর স্ত্রী মেন্টাল অ্যাসাইলামে ভর্তি করতে এসেছিলেন। নীলকন্ঠ তাঁর জীবনের একটা বড় অংশ কাটিয়েছিলেন এই অ্যাসাইলামে এবং সেখানে তাকে দেখাশুনো করতেন ডঃ এস.পি.মুখার্জী। ডঃএস.পি.মুখার্জীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেতা আবীর চ্যাটার্জী। অসুস্থ থাকাকালীন তিনি লিখে ফেলেছিলেন একটা আস্ত নাটক। রে দেওয়ার পর যখন আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে উঠছেন তখন ডাক্তার তাঁকে বলছিলেন ‘এবার সুস্থ হয়ে উঠতে হবে তো। আবার করে কাজ শুরু করতে হবে।’ তখন নীলকণ্ঠ তাকে বিছানার তলা থেকে তাঁর নাটক লেখা খাতাটা বের করে দেন এবং সেই নাটকই পরে অ্যাসাইলামের অন্যান্য রুগীদের নিয়ে মঞ্চস্থ করেন। এই ছবিতে পরিচালক দেখিয়েছেন কেন দুর্গা(অনন্যার চরিত্র) তাঁর সঙ্গে বিচ্ছেদ করেছিলেন। শুধু তাই নয় এই ছবির মধ্যে দিয়ে পরিচালক নীলকণ্ঠের মানসিক পরিস্থিতি, স্ট্রাগল, তাঁর নিজস্ব পরিস্থিতি, হতাশা এমনকি চরম অর্থনৈতিক কষ্ট দেখিয়েছেন। তিনি পরিষ্কার বলেছিলেন যে তাঁর দ্বারা কোনোরকম কমার্শিয়াল ফিল্ম তৈরী করা সম্ভব নয়। তাতে যা হয় হবে। তার জন্য তিনি তাঁর ডাক্তারকে বলেছিলেন যে তিনি ‘পিপল’স আর্টিস্ট’আর সেটাই তাঁর কাজ। যদিও দেশী মদ খেয়ে তিনি নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে।

এই ছবিতে প্রত্যেকেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে নীলকণ্ঠর চরিত্রে শাশ্বতর অভিনয় একেবারে নজরকাড়া। অনন্যাও পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেছেন দুর্গার চরিত্রে। মুমতাজের খুব বেশি অভিনয় না থাকলেও যতটুকু করেছেন বেশ ভালো করেছেন। গানগুলোও একেবারে মানানসই। ছবির শেষে যখন নীলকন্ঠকে আবার নতুন দিগন্তের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই সময় ‘আহ্বান শোনো আহ্বান’ গানটি একেবারে যথাযথ। সব দিক দিয়ে এই ছবিটিকে একটি ক্লাসিক ছবি বললে কিছু ভুল বলা হবে না।



Google Translater

Quisque facilisis fermentum augue, sit amet
elementum nibh semper volutpat.

Categories :

Year:

Know About :