A PHP Error was encountered

Severity: Notice

Message: Only variable references should be returned by reference

Filename: core/Common.php

Line Number: 257

Banglacinema | Interview

লাজবন্তী রায়চৌধুরী


লাজবন্তী রায় চৌধুরী একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী। শুধু গান-ই নয় তার পাশাপাশি নাচ, নাটক সবেতেই সমানভাবে সফল হয়েছেন। রোজগেরে গিন্নীর একজন সফল অ্যাঙ্কর। শুধু অ্যাঙ্কর নন এর জন্য পেয়েছেন বেস্ট অ্যাঙ্করের অ্যাওয়ার্ড। আর করেছেন একটি নজিরবিহীন রেকর্ড যা আজ অবধি কারুর নেই। তা হল লাজবন্তী টানা সাড়ে তেরো বছর এই অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছিলেন। তারপর অনেকগুলো অ্যালবাম করেছেন। অনেক জায়গায় সম্মান পেয়েছেন। আসছে তার নতুন দুটো অ্যালবাম।


প্রশ্নঃ তোমার প্রথম হাতে খড়ি কার কাছে?

লাজবন্তীঃ আসলে কি বলতো আমাদের বাড়িতে একটা পরিবেশ ছিলই। আমার বাবা ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন কিন্তু খুব ভালো গিটার আর তবলা বাজাতেন। মা-ও হাউসওইয়াইফ ছিলেন বটে কিন্তু অসম্ভব ভালো রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতেন। তো সব মিলিয়ে আমাদের বাড়িতে গানের পরিবেশ ছিল। আমি মাত্র আড়াই বছর বয়স থেকে গান শেখা শুরু করি। মানে ঠিক করে অ,আ,ক,খ-ও বলতে পারি না অথচ গান শেখা শুরু। আমার গানের প্রথম গুরু ছিলেন কমল চন্দ্র। উনি আমায় কোলে বসিয়ে গান শেখাতেন।

প্রশ্নঃ ছোটবেলার গান অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

লাজবন্তীঃ সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। একেই অত ছোট বয়সে গান শেখা। আমি গান শুনে শুনে তুলতে পারতাম খুব ভালো। আমি আসানসোলে সব জায়গায় একই বছরে একটাই গান গেয়ে ফার্স্ট হয়েছিলাম। এটা একটা রেকর্ড। আর শুধু গান নয় তার পাশাপাশি নাটক, নাচ সবই করতাম। নাটকের লিড করতাম।

প্রশ্নঃ তাহলে নাটক করলে না কেন?

লাজবন্তীঃ একটা এজ পর্যন্ত এটা ঠিক থাকে। কিন্তু পরে আর হয় না। অনেক মানুষের-ই বহুমুখী প্রতিভা থাকে। কিন্তু লক্ষ্যটা এক রাখা উচিত। তাই আমি গানটাকেই খুব ভালোবেসে এটা নিয়েই রইলাম। তবে এখনো লেখালেখির চর্চা আছে। আমি তো কলেজ ম্যাগাজিনের হেড ছিলাম। আমাদের বাংলা ডিপার্টমেন্টের বন্ধুরা মিলে একটা লিটল ম্যাগ বের করতাম। আমি আর আমার এক বন্ধু সেটার সম্পাদক ছিলাম। ম্যাগটার নাম ছিল ‘মনন’।খোঁজ

প্রশ্নঃ পড়াশোনা না গান – কোনটা বেশি প্রাধান্য দিতে?

লাজবন্তীঃ দুটোই। পড়াশোনার পাশাপাশি গান। আমার বাড়িতে দুটোই খুব সাঙ্ঘাতিক। এমন হয়নি যে গান করতে গিয়ে পড়াশোনা কম করেছি বা তার উল্টোটা। দুটোই একেবারে সমান তালে করেছি। আমার মনে আছে আমার মাধ্যমিকে অঙ্ক পরীক্ষার আগের দিন-ও আমার গানের স্যার এসেছিলেন গান শেখাতে। আমার বন্ধুদেরই অনেকে পরীক্ষার জন্য সব বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু আমি মাধ্যমিকে খুব ভালো রেজাল্টও করেছিলাম।

 

Lajbonti & Manil Babu

প্রশ্নঃ প্রথম স্টেজে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা যদি শেয়ার করো।

লাজবন্তীঃ এখন আর মনে নেই সেটা(হাসি)। প্রশ্নঃ গান শেখার সময় কোনো মজার অভিজ্ঞতা। লাজবন্তীঃ ক্লাস নাইনে পড়ার সময় আমি ফার্স্ট কোলকাতায় আসি গান শিখতে রমা দির কাছে। মানে রমা মন্ডল। রমা দির গানের স্টাইল ছিল একেবারে অন্য রকম। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য এত অল্প বয়সে চলে গেলেন উনি। তারপর মোহন সিং খাঙ্গুকার কাছে গান শিখেছি। তারপর আমি বিশ্বভারতীতে পড়াশুনো করেছি। দু’শো জন পরীক্ষা দিয়েছিল। আমি তাদের মধ্যে দিয়েই চান্স পেয়েছিলাম। তারপর গুরুদেবের আশ্রমে যাই ওখানকার মতো করে গানটা শিখব বলে। ওদের একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। কিন্তু আমি আমার মতো করেই গানটা শিখেছি। আমি সুমিত্রা সেনের কাছেও গান শিখেছি। তারপর ’৮৯ থেকে দূরদর্শন ও বেতারের নিয়মিত শিল্পী ছিলাম। তারপর ‘৯২তে প্রথম প্লেব্যাক। খালি গলায় অতুলপ্রসাদের একটা গান গেয়েছিলাম। আর লাবণীদি লিপ দিয়েছিল। এর মাঝে আমি গুলজার সাহাবের সংস্পর্শে আসি। তারপর ২০০০ সাল থেকে রোজগেরে গিন্নি শুরু করি। আর এটাও একটা রেকর্ড যে টানা সাড়ে তেরো বছর আমি এটাতে অ্যাঙ্কারিং করেছিলাম। আর আমি বেস্ট অ্যাঙ্করের অ্যাওয়ার্ড-ও পেয়েছিলাম।

Lajbonti

 

প্রশ্নঃ যখন ঠিক করলে যে গানটাকেই পেশা হিসেবে নেবে তখন কোনো অসুবিধা হয়নি?

লাজবন্তীঃ নিজের পরিবার তো পাশেই ছিল সবসময়। আর বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে মনেই হয়নি আমি অন্য কোনো জগতে এসে পড়েছি। আমার স্বামী একজন শিল্পপতি কিন্তু ভয়ঙ্কর সংস্কৃতি মনস্ক। আমার শাশুড়ি মা, ননদ খুব ভালো গান করেন। শ্বশুর খুব ভালো তবলা বাজাতেন। আমার স্বামী তো আমার কাছে একটাই জিনিষ চেয়েছে সেটা হল ‘তুমি গানটা গাও’।

প্রশ্নঃ এই যে এত রিয়্যালিটি শো হচ্ছে তুমি মনে করো যে এতে বাচ্চাদের কোনো উপকার হবে?

লাজবন্তীঃ একদমই হবে না। বরং খুব ক্ষতি হবে। আমি তো কোনোদিন আমার মেয়েকে দেব না। আমি এমন অনেক মা-বাবাকে দেখেছি যারা তাদের বাচ্চাদের দিনের পর দিন স্কুল কামাই করিয়ে ওখানে রেখেছেন। শুধুমাত্র ফুটেজ পাওয়ার জন্য। যখনই তাদের ছেলে বা মেয়ে গান গাইতে উঠবে ‘ওই তো আমার মেয়ে গাইছে।’ আমারই এক আত্মীয়ের বাচ্চা(নাম অপ্রকাশিত) এই ধরণের এক জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শোতে গান গাইছে।এবং বেশ নাম-ও করেছে।

প্রশ্নঃ তাহলে লাজবন্তী রায়চৌধুরীকে দর্শকেরা কোনোদিন রিয়্যালিটি শো-এ বিচারকের আসনে দেখতে পাবেন না?

লাজবন্তীঃ না দ্যাখো বিচার করা আলাদা জিনিষ। কেউ গান গাইছে আর সেই গানের বিচার করা একদম অন্য জিনিষ। দর্শক নিশ্চয়ই দেখতে পাবেন আমায় বিচারকের আসনে। তবে এখনো অবধি আমায় কেউ ডাকেনি।

প্রশ্নঃ তোমার নেক্সট প্রজেক্টগুলো সম্বন্ধে যদি বল।

লাজবন্তীঃ আমার নেক্সট দুটো অ্যালবাম তৈরী হচ্ছে। কাজ শুরু হবে। একটা অ্যালবাম হবে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আর একটা হবে ফোক-এর। তবে এটাতেও একটা বিশেষ চমক থাকবে। গত বছর আমার একটা অ্যালবাম বেরিয়েছিল। রাজারহাটের রবিতীর্থ-তে একটা বিশাল অনুষ্ঠান হয়েছিল। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এসেছিলেন। এটা বিশাল পাওনা। শুধু তাই না গত বছর ত্রিপুরা থেকে আমায় শারদ সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ওরা জুলাই মাসের ৭ তারিখ আবার সম্মান দেয়। আমার একটা শো ছিল ওখানে। আর সন্ধ্যেবেলায় একটা অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু আমার গান শুনে ত্রিপুরার মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী আমায় ভীষণ পছন্দ করেন এবং সন্ধ্যেবেলা তাদের বাড়িতে নেমন্তন্ন করেন। এটা একটা বিশাল পাওনা আমার কাছে।

 



Google Translater

Quisque facilisis fermentum augue, sit amet
elementum nibh semper volutpat.

Categories :

Year:

Know About :